সালাত … মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার অনন্য সাধারণ এক মাধ্যম

Prostration in Prayer

‘ইকরা’ মানে সাধারণত জানি ‘পড়ো’ বা ‘তিলাওয়াত করো’। কিন্তু এর একটা মানে হয় ‘সালাত আদায় করো’। কীভাবে?

কুরআনে অনেক জায়গায় বলা হয়েছে রুকূ করো; কিন্তু এই রুকূ কি আসলে সালাত ছাড়া করা যায়? অনেক জায়গায় বলা হয়েছে সিজদা করো; কিন্তু এই সিজদা কি সালাত ছাড়া করা যায়? কুরআনে এমন অনেক জায়গায় বলা আছে আল্লাহর প্রশংসা করো, মহিমা বর্ণনা করো, বড়ত্ব ঘোষণা করো, কুরআন তিলাওয়াত করো—বহু ক্ষেত্রেই এর মূল উদ্দেশ্য সালাতে এগুলো করো।

আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মাদ ﷺ মাক্কা শহরের কোলাহল ছেড়ে কেন অত দূরে অত উঁচুতে হিরা গুহায় বিজনে সময় কাটাতেন? কেন দিনের পর দিন সবকিছু ছেড়েছুড়ে পড়ে থাকতেন একা? কারণ, তাঁর মনের মাঝে ছিল মহান প্রভুর উপাসনা করার বাসনা; কিন্তু তিনি জানতেন না তখন, কীভাবে তা করতে হয়।

ফেরেশতা জিব্রীল আ. প্রথম যবে এলেন আল্লাহর বাণী নিয়ে, তাঁকে বললেন, “ইকরা”। দ্বিতীয়বার যবে এলেন, বললেন, ﴾এই যে, চাদরে মুড়ি দেওয়া-জন, ওঠো, হুঁশিয়ার করো। তোমার প্রভুর বড়ত্ব ঘোষণা করো।﴿ তৃতীয়বারে এসে বললেন, ﴾এই যে, চাদরে মুড়ি দেওয়া-জন, অল্প কিছু সময় ছাড়া জেগে থাকো সারা রাত, কিংবা আধেক রাত, বা তার চেয়ে ক্ষাণিক কম; অথবা কিছু বেশি। কুরআন তিলাওয়াত করো গোটা গোটা শব্দে﴿—প্রতিটা জায়গায় সালাতের ইঙ্গিত।

এই তো সালাত—এর নির্দেশ দিতে নবি মূসাকে আমার প্রভু ডেকে নিয়েছিলেন পবিত্র তূর পাহাড়ে, নিভৃতে কথা কইবেন বলে।

এই তো সালাত—সকল নারীর সেরা নারী মারইয়ামকে এসে ফেরেশতারা বলেছিলেন এর কথা।

এই তো সালাত—ফেরেশতা জিব্রীল মারফত নয়; সরাসরি নবিজিকে এর সুখবর দেবেন বলে তাঁকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন আমার প্রভু একেবারে তাঁর কাছে, সপ্ত দ্যুলোক পেরিয়ে, সিদরাতুল-মুনতাহারও পরে, যেখানে স্বর্গ-মর্ত্যের কারওরই কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

এই সালাতই তো বিশ্বাসীর মি‘রাজ। আমার প্রিয় নবির প্রশান্তি। শত সমস্যায় দুনিয়ার তাবৎ নবি আর রাসূল বুঁদ হতেন সালাতে। মগ্ন হতেন আল্লাহর সাথে নিবিড় কথপোকথনে। আযান শুনলে সব বাদ দিয়ে ছুটে যেতেন মাসজিদে। আর আমরা সালাত ছেড়ে পড়ে থাকি দুনিয়ার যা কিছু নিয়ে মত্ত তাতেই। হাসান বাসরি রাহ়িমাহুল্লাহ বলতেন, প্রতিযোগিতা যদি হয় দীন নিয়ে, তা হলে কোনো ছাড় দিয়ো না। আর যদি হয় দুনিয়া নিয়ে, ছেড়ে দাও।

এই সালাতের সবচে দামি অংশ সিজদা। তাতে সবচে দামি কথা ‘সুবহানা’—মহাকাশ ও পৃথিবীর মাঝে সবচে দামি শব্দ। ‘ইকরা’ বলে শুরু সূরাটির শেষে আল্লাহ বলেছিলেন, ﴾সিজদা করে আমার সান্নিধ্যে আসো!﴿ আমাদের স্রষ্টা, আমাদের প্রভু, মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে। আর ওটা ছেড়েই কি আল্লাহকে পাওয়ার আশা করছি?

[তথ্যসূত্র: সালাতের প্রাণ, শাইখ ড. আকরাম নাদউই]

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে। 

আরও পড়ুন:

Advertisements

__ATA.cmd.push(function() {
__ATA.initSlot(‘atatags-26942-5c7220fc010bf’, {
collapseEmpty: ‘before’,
sectionId: ‘26942’,
width: 300,
height: 250
});
});

__ATA.cmd.push(function() {
__ATA.initSlot(‘atatags-114160-5c7220fc010c1’, {
collapseEmpty: ‘before’,
sectionId: ‘114160’,
width: 300,
height: 250
});
});

Updated: February 24, 2019 — 4:43 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *